এই বইটিতে বেশ কয়েকটি সাধারণ পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির বিষয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অন্যান্য তুলনামূলক কম সাধারণ পদ্ধতি সম্পর্কে (প্যাচ, ডায়াফ্রাম, এবং অন্যান্য) জানতে যেখানে নারীদের কোন ডাক্তার নেই ১৩ অধ্যায় দেখুন বা ধাত্রীদের জন্য একটি পুস্তক-এর অধ্যায় ১৭ দেখুন, উভয়ই হেসপেরিয়ান থেকে পাওয়া যাচ্ছে।
কিভাবে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি চয়ন করতে হবে
ভিন্ন ভিন্ন পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধাগুলোও ভিন্ন। আপনার সঙ্গি, অন্যান্য নারী, বা একজন স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে বিভিন্ন পদ্ধতির বিষয়ে কথা বললে হয়তো আপনার জন্য কোনটা সঠিক তার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য হতে পারে। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি বাছাই করার সময় কয়েকটি বিষয় আপনি বিবেচনা করতে পারেন:
- এটি কত ভালভাবে গর্ভধারণ রোধ করে।
- কত ভালভাবে এটি যৌনবাহিত সংক্রামণ রোধ করে।
- আপনার সঙ্গি পরিবার পরিকল্পনা ব্যবহার করতে চায় কিনা, বা বিষয়টি আপনার তার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখতে হবে কিনা।
- পদ্ধতিটি পাওয়া সহজ কিনা, এবং কত দিন পরপর আপনার তা ব্যবহার করতে হবে।
- পদ্ধতিটির খরচ কত।
- এর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা।
- আপনার অন্যান্য চাহিদা বা উদ্বেগের বিষয় আছে কিনা। উদাহরণস্বরূপ: আপনি বুকের দুধ খাওয়ান কিনা? আপনার কি সকল সন্তান রয়েছে যে ক’টি আপনি চেয়েছিলেন।
| পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আপনার আছে। |
| পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি | গর্ভধারণ রোধ | যৌনবাহিত রোগ রোধ | কতদিন পর পর | অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ |
|---|---|---|---|---|
| কনডম | ভাল | সবথেকে ভাল | প্রতিবার | যদি শুক্রাণুনাশক এবং জলভিত্তিক পিচ্ছিলকারকের সাথে ব্যবহার করা হয় তবে সবথেকে ভাল কাজ করে। প্রতিবার যৌনসঙ্গম করার সময় কনডম ব্যবহার করতে হবে। |
| জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি -সমন্বিত বড়ি | খুব ভাল | মোটেই না | প্রতিদিন | প্রতিদিন যদি একই সময়ে সেবন করা হয় তবে সবথেকে ভাল কাজ করে। যে নারীদের নীচে তালিকাবদ্ধ করা স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো আছে তাদের এই পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত নয়। |
| জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি -ছোট বড়ি | খুব ভাল | মোটেই না | প্রতিদিন | যদি প্রতিদিন একই সময়ে নেয়া হয় তবেই তা শুধুমাত্র কাজ করবে। বুকের দুধ দেয়ার সময়েও ব্যবহার করা যায় (শিশুটির বয়স ৬ সপ্তাহ হয়ে যাবার পর)। |
| প্রোথন | সবথেকে ভাল | মোটেই না | ৩ বা ৫ বছর | বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য কর্মী দ্বারা এটি প্রোথিত ও অপসারণ করতে হবে এবং ধরনের উপর নির্ভর করে প্রতি ৩ থেকে ৫ বছরে তা বদলাতে হবে। |
| ইঞ্জেকশন | খুব ভাল | মোটেই না | ১, ২, বা ৩ মাস | প্রতি ১, ২, বা ৩ মাস পরপর পুনরাবৃত্তি করতে হবে (ধরনের উপর নির্ভর করে)। |
| আইইউডি | সবথেকে ভাল | মোটেই না | ৫ বা ১২ বছর | ৫ বা ১২ বছরের জন্য কার্যকর (ধরনের উপর নির্ভর করে)। বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মী দ্বারা অবশ্যই প্রথিত ও অপসারণ করতে হবে। |
| বের করে আনা (প্রত্যাহার করা) | সবথেকে কম | মোটেই না | প্রতিবার | আপনি প্রতিবার যৌনসঙ্গম করার সময় আপনার সঙ্গিকে তার পুরুষাঙ্গ বের করে আনতে হবে। সে যদি বের করে আনেও যৌনসঙ্গমের সময় পুরুষাঙ্গ থেকে কিছু পরিমাণ তরল পদার্থ যোনিপথে প্রবেশ করতে পারে, যার ফলে গর্ভধারণ হয়ে যেতে পারে, বা যৌনবাহিত রোগ ছড়াতে পারে। |
| বুকের দুধ খাওয়ানো (শুধু প্রথম ৬ মাসের জন্য) | খুব ভাল | মোটেই না | দিনে ও রাতে বেশ কয়েকবার | এই পদ্ধতিটি কার্যকর হবে শুধুমাত্র নারীটি যদি তার শিশুকে প্রতিদিন শুধু বুকের দুধ খাওয়ায় এবং তার মাসিক শুরু না হয়। |
| গর্ভধারণক্ষমতার সচেতনতা | ভাল | মোটেই না | প্রতিবার | যাদের মাসিকচক্র অনিয়মিত তাদের জন্য এই পদ্ধতি ভাল কাজ করে না। |
| সঙ্গম ছাড়া যৌনক্রিয়া (পুরুষাঙ্গ স্ত্রীযোনির ভিতরে যায় না) | সবথেকে ভাল | নির্ভর করে | প্রতিবার | একটি পুরুষাঙ্গ যদি স্ত্রীযোনি স্পর্শ না করে তবে সে গর্ভবতী হতে পারবে না। পায়ুপথে যৌনক্রিয়া সহজেই যৌনরোগ ছড়াতে পারে, মুখমৈথুন সহজে যৌনরোগ ছড়ায় না, এবং যৌনস্পর্শের মাধ্যমে যৌনরোগ ছড়ানোর ঘটনা বিরল। |
| বন্ধাকরণ | সবথেকে ভাল | মোটেই না | একবার | একটি পুরুষ বা নারীর একবার করা হলে তারা আর কখনও গর্ভবতী হবে না বা কাউকে গর্ভবতী করতে পারবে না। |
মানুষ তাদের অবস্থার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন পদ্ধতি বাছাই করে।
| আপনার পছন্দ হতে পারে: প্রোথন, ইঞ্জেকশন, আইইউডি | আপনার পছন্দহতে পারে: বড়ি, প্রোথন, পুরুষদের কনডম, গর্ভধারণক্ষমতার সচেতনতা |
| আপনি হয়তো এড়াতে পারেন: বড়ি, গর্ভধারণক্ষমতার সচেতনতা | আপনি হয়তো এড়াতে পারেন: মহিলাদের কনডম, আইইউডি |
| আপনার পছন্দ হতে পারে: ইঞ্জেকশন, কনডম | আপনার পছন্দ হতে পারে: প্রোথন, ইঞ্জেকশন, আইইউডি, পুরুষ বা নারী বন্ধাকরণ |
| আপনি হয়তো এড়াতে পারেন: বড়ি | আপনি হয়তো এড়াতে পারেন: গর্ভধারণক্ষমতার সচেতনতা |
| আপনার পছন্দ হতে পারে: কনডম, বড়ি, গর্ভধারণক্ষমতার সচেতনতা | আপনার পছন্দ হতে পারে: কনডম, বড়ি, গর্ভধারণক্ষমতার সচেতনতা |
| আপনি হয়তো এড়াতে পারেন: প্রোথন, ইঞ্জেকশন, আইইউডি, বন্ধাকরণ | আপনি হয়তো এড়াতে পারেন: কনডম ছাড়া সহবাস করা |
| ব্যক্তিটি একটির বেশী পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারে। | |
কনড

একটি কনডম হলো পাতলা রাবারের আবরণ যা একজন পুরুষ যৌনসঙ্গম করার সময় তার পুরুষাঙ্গে পরিধান করে। পুরুষটির বীর্য কনডমের মধ্যেই থাকে, তাই শুক্রাণু যোনিপথের মধ্যে যেতে পারে না এবং গর্ভধারণ ঘটাতে পারে না। কনডম নিরাপদ এবং এর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।
এইচআইভিসহ অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রামণ রোধ করার সবথেকে কার্যকর উপায়ও হচ্ছে কনডম। আপনি যদি জন্ম নিয়ন্ত্রণের অন্য পদ্ধতিও ব্যবহার করেন তারপরও নিজেকে ও আপনার সঙ্গিকে যৌনবাহিত সংক্রামণ থেকে সুরক্ষা করতে আপনি কনডমও ব্যবহার করতে পারেন।

কনডম পরিবার পরিকল্পনার একমাত্র পদ্ধতি যা গর্ভধারণ রোধ ও যৌনবাহিত সংক্রামণ রোধ করার সবথেকে কার্যকর পদ্ধতি। কিন্তু পুরুষটিকে প্রতিবার সঙ্গম করার সময় কনডম ব্যবহার করায় আগ্রহী হতে হবে।

কনডমের আগায় চাপ দিন এবং আপনার শক্ত হওয়া পুরুষাঙ্গের উপর দিয়ে গুটানো কনডমটিকে সম্পূর্ণ মেলে ধরুন। কনডমের আলগা আগা পুরুষের বীর্য ধরে রাখবে। আপনি যদি বীর্য ধরার জন্য জায়গা না রাখেন তবে কনডমটি হয়তো ফেটে যাবে।)
বীর্যপাত হবার পর পুরুষাঙ্গটি শক্ত থাকতে থাকতে কনডমের প্রান্ত ধরে এটিকে আপনার পুরুষাঙ্গের উপর লেগে থাকা নিশ্চিত করে নারীর যোনিপথ থেকে বের করে আনুন। তারপর কনডমটিকে পুরুষাঙ্গ থেকে বের করে আনুন। (কনডমটিকে আবর্জনার ঝুড়িতে রাখুন – অন্যরা সংস্পর্শে আসতে পারে এমন জায়গায় এটিকে রাখবেন না!) প্রতিবার সঙ্গম করার সময় একটি নতুন কনডম ব্যবহার করুন।
নারী কনডম
![]()
ভিতরের চক্রটি যোনির মধ্যে প্রবেশ করবে।
বাইরের চক্রটি যোনির বাইরে অবস্থান করবে।
একটি নারী কনডম যোনির ভিতরে লাগসইভাবে লেগে থাকে এবং নারীর যোনিমুখের বাইরের কানাগুলোকে ঢেকে রাখে। এটি একটি পুরুষ কনডমের চাইতে বড় এবং ফেটে যাবার সম্ভাবনা অনেক কম। নারী কনডম এইচআইভি এবং অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রামণ থেকে রক্ষা করে। একই সাথে একটি পুরুষ কনডম ও একটি নারী কনডম ব্যবহার করবেন না।
পিচ্চিলকারক
কনডম ফেটে যাওয়া রোধ করতে জলভিত্তিক পিচ্ছিলকারক ব্যবহার করুন, যেমন থুতু (মুখের লালা) বা কে-ওয়াই জেলী। কনডমের সাথে রান্নার তেল, শিশুদের জন্য তেল, খনিজ তেল, পেট্রোলিয়াম জেলী (ভেজলিন), ত্বকের লোশন, বা মাখন ব্যবহার করবেন না কারণ এই তেলভিত্তিক উৎপাদগুলো রাবারকে দুর্বল করে তোলে, ফলে কনডম ফেটে যেতে পারে। পিচ্ছিলকারক যৌনসম্ভোগকে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য আরও বেশী আনন্দদায়ক করে তুলতে পারে।
শুক্রাণুনাশক
শুক্রাণুনাশক হলো ফেনা, বড়ি, ক্রিম, জেলী, বা সমতল ফালি যেগুলো যোনির মধ্যে দ্রবীভূত হয়ে যায় এবং শুক্রাণুকে মেরে ফেলে যাতে সেগুলো ডিম্বাণুকে নিশিক্ত করতে না পারে।
| প্রলেপক |
যৌনসঙ্গমের ঠিক আগে যোনির মধ্যে শুক্রাণুনাশক প্রবেশ করানো হয়। এটি একা একাই ভাল কাজ করতে পারে না, কিন্তু কনডমের সাথে ব্যবহার করলে গর্ভধারণ রোধে অতিরিক্ত সুরক্ষা দেয়। শুক্রাণুনাশক যৌনবাহিত রোগ বা এইচআইভির বিরুদ্ধে কোন সুরক্ষা দেয় না।
জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি
জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ির মধ্যে কিছু হরমোন থাকে যেগুলো নারীর দেহের মধ্যে থাকা স্বাভাবিক হরমোনগুলোর মতোই কাজ করে। এগুলো নারীর ডিম্বাশয়কে ডিম্বাণু বের করা থেকে বিরত রেখে গর্ভধারণ রোধ করে। দুই ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি আছে: সমন্বিত বড়ি যার মধ্যে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টিন নামের দু’টো হরমোন থাকে, এবং ছোট বড়ি যার মধ্যে শুধু প্রোজেস্টিন থাকে। মুখে খাবার জন্ম নিরোধক অনুচ্ছেদে কয়েকটি সাধারণ জন্ম নিয়ন্ত্রণের মার্কা উল্লেখ করা হয়েছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি এইচআইভি বা অন্যান্য যৌনবাহিত রোগের (এসটিআই) বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় না। নিজেকে রক্ষা করার জন্য একটি কনডম ব্যবহার করুন।
কোন কোন নারী বড়ি গ্রহণ করতে পছন্দ করে কারণ এগুলো তাদের মাসিককে আরও বেশী নিয়মিত করতে সাহায্য করে, ফলে তাদের মাসিক ঠিক কোন দিন শুরু হবে তা তারা জানে। বড়ি মাসিকের রক্তক্ষরণের পরিমাণ কমিয়ে দেয়, এবং পেটে খিঁচুনী ও ব্যথা কমায়।
জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি ক্যান্সার সৃষ্টি করে না।
জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি ক্যান্সার সৃষ্টি করে না।

সমন্বিত জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ির বিভিন্ন মার্কায় এই দু’টি হরমোনের বিভিন্ন মাত্রা ব্যবহার করা হয়ে থাকে । একটি সাধারণ সমন্বিত বড়ির আদর্শ মাত্রা হতে পারে ১ মিলিগ্রাম (মিগ্রা) বা তার কম প্রোজেস্টিন এবং একটি ইস্ট্রোজেনের ৩০ বা ৩৫ মাইক্রোগ্রাম যাকে এথিনিল এস্ট্রাডিওয়ল বলা হয়, বা একটি ইস্ট্রোজেনের ৫০ মাইক্রোগ্রাম যাকে মেস্ট্রানল বলা হয়।
ছোট বড়ি সমন্বিত বড়ি নয়। এর মধ্যে থাকে শুধুমাত্র প্রজেস্টিন।
বড়ি খুবই কার্যকর যদি প্রতিদিন একই সময়ে গ্রহণ করা হয়। বেশীরভার নারীর জন্য এগুলো নিরাপদ।
কিভাবে সমন্বিত বড়ি সেবন করতে হবে

আপনি যদি নিশ্চিত হন যে আপনি গর্ভধারণ করেন নি, তবে আপনি যে কোন সময়ে বড়ি সেবন করা শুরু করতে পারেন। বড়ি সেবন শুরু করার পর এক সপ্তাহ পার না করা পর্যন্ত বড়ি আপনার গর্ভধারণ রোধ করবে না। তাই জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি শুরু করার প্রথম ৭ দিন হয় কনডম ব্যবহার করুন বা যৌনসঙ্গম এড়িয়ে চলুন।
গর্ভধারণ রোধে প্রতিদিন আপনাকে অবশ্যই ১টি বড়ি সেবন করতে হবে, আপনি যদি সেদিন যৌনসঙ্গম নাও করেন। প্রতিদিন একই সময়ে তা সেবন করার চেষ্টা করুন। আপনি যেখানে ঘুমান সেখানে বড়িগুলো রাখলে হয়তো প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে একটি বড়ি সেবন করায় এটি আপনাকে সাহায্য করতে পারে। বেশীরভাগ সমন্বিত বড়ি ২৮টি বা ২১টির মোড়কে পাওয়া যায়।
সমন্বিত বড়ির সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো বিপজ্জনক নয় কিন্তু কোন কোনটি বেশ বিরক্তিকর হতে পারে। এগুলো সাধারণতঃ প্রায় তিন মাস পর কমে যায় বা চলে যায়। কোন কোন সময় ভিন্ন মার্কার বড়ি পরখ করে দেখলে সাহায্য হতে পারে।
| মেজাজে পরিবর্তন যেমন দুঃখিত ভাব বা খিটখিটে হওয়া | মাথাব্যথা | স্বাভাবিক রক্তক্ষরণের মধ্যবর্তী সময়ে অস্বাভাবিক সামন্য রক্তক্ষরণ | |||
| স্তন স্ফীত, কোমল হয়ে যাওয়া | বমি বমি ভাব |
সমন্বিত বড়ি ৩ভাবে ব্যবহার করা যায়
২৮দিন ব্যবহার: হরমনযুক্ত বড়িগুলোকে ২১দিনের জন্য সেবন করুন এবং তার পরবর্তী ৭ দিন বাকি বড়িগুলো সেবন করুন (মোড়কের মধ্যে অতিরিক্ত বড়ি যেগুলোতে কোন হরমোন নেই) বা আর কোন বড়িই সেবন করবেন না। আপনার প্রতি মাসে ঐ সাত দিনে স্বাভাবিক মাসিকের মতোই রক্তক্ষরণ হবে।
| প্রতিদিন একটি করে বড়ি সেবন করুন। শেষ ৭টি বড়ি, যেগুলোতে কোন হরমোন নেই, হলো অনুস্মরক বড়ি – ওগুলো আপনাকে প্রতিদিন একটি করে বড়ি সেবন করতে হবে তা স্মরণ করিয়ে দেবার জন্য ওখানে দেয়া আছে। মোড়কের শেষ ৭টি বড়ি অন্যান্য বড়িগুলো থেকে ভিন্ন রংয়ের হবে। . | ||
| আপনার যদি ২১ দিনের মোড়ক থাকে, তবে ২১ দিনের জন্য প্রতিদিন একটি করে বড়ি গ্রহণ করুন – সম্পূর্ণ মোড়কের বড়িগুলো। তারপর ৭দিনের জন্য কোন বড়ি গ্রহণ করবেন না। তার পর আবারও নতুন মোড়ক থেকে বড়ি সেবন করা শুরু করুন। |
সম্প্রসারিত ব্যবহার: হরমোনযুক্ত বড়িগুলোকে পরপর ৮৪ দিন কোন বিরতি ছাড়াই সেবন করুন এবং তারপর ৭ দিনের বিরতি দিন। কোন কোন সময় বড়িগুলো ৯১টি বড়ির মোড়কে পাওয়া যায় (৮৪টি হরমোন সহ এবং ৭টি অনুস্মরক বড়ি যেগুলোর মধ্যে কোন হরমোন নেই)। ঐ ৭দিন আপনার মাসিকের মতো স্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হবে কিন্তু তা ৩মাসে একবার মাত্র। স্পটিং (খুবই হালকা রক্তক্ষরণ) দেখা দিতে পারে কিন্তু কয়েক মাস পরে চলে যাবে।
অব্যহত ব্যবহার: হরমোনযুক্ত বড়িগুলো কোন বিরতী ছাড়াই প্রতিদিন ব্যবহার করুন। যদি অনিয়মিত রক্তক্ষরণ আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলে তবে ৩ থেকে ৪ দিনের জন্য বড়ি সেবন বন্ধ করে দিন যাতে কয়েক দিনের স্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হয়, এবং তারপর আবারও প্রতিদিন বড়ি গ্রহণ করা শুরু করুন।
উপরে উল্লেখিত সকল উপায়ে বড়ি ব্যবহার করা নিরাপদ। আপনার যদি একটি বা তার বেশী বড়ি সেবন করা বাদ যায় তবে কী করতে হবে তা সমন্বিত বড়ি ব্যবহারকারী সকলেরই জানা উচিত:
আপনি যদি ১টি বা ২টি বড়ি সেবন করতে ভুলে যান, তবে মনে পড়ার সাথে সাথে একটি বড়ি সেবন করুন। তারপর পরবর্তী বড়িটি নিয়মিত সময়ে গ্রহণ করুন। এর মানে হতে পারে যে আপনাকে একই দিনে ২টি বড়ি সেবন করতে হবে।
পর পর ৩দিন আপনি যদি ৩টি বড়ি সেবন করতে ভুলে যান, সাথে সাথে একটি বড়ি সেবন করুন। তারপর প্রতিদিন নিয়মিত সময়ে একটি করে বড়ি সেবন করুন। আপনার মাসিক শুরু হবার আগে কনডম ব্যবহার করুন, অথবা পরপর ৭দিন একটি করে বড়ি সেবন না করা পর্যন্ত যৌন ক্রিয়া থেকে বিরত থাকে।
আপনার মাসিক যদি নির্দিষ্ট সময়ে না হয় এবং আপনি কয়েকটি বড়ি সেবন করতে ভুলে গিয়ে থাকেন তবে বড়ি সেবন করা চালিয়ে যান কিন্তু গর্ভধারণ পরীক্ষা করান। যদি পরীক্ষা আপনি গর্ভধারণ করেছেন প্রমাণিত হয় তবে বড়ি সেবন করা বন্ধ করে দিন।
সমন্বিত বড়ি গ্রহণ বন্ধ করা
আপনি যে কোন সময়ে বড়ি সেবন করা বন্ধ করে দিতে পারেন। আর তখনই আপনি গর্ভবতী হয়ে যেতে পারেন, সুতরাং আপনি যদি গর্ভধারণ এড়িয়ে যেতে চান তবে কনডম বা অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
কার সমন্বিত বড়ি ব্যবহার করা উচিত নয়
কোন কোন নারীর স্বাস্থ্য সমস্যা থাকতে পারে যা তাদের পক্ষে সমন্বিত বড়ি ব্যবহার করা বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। আপনার যদি নীচে উল্লেখিত অবস্থাগুলো থাকে তবে সমন্বিত বড়ি সেবন করবেন না:
- তীব্র উচ্চ রক্তচাপ (১৬০/১১০ বা তার বেশী)। উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে আরও জানতে হৃদরোগ (সংকলিত হচ্ছে) দেখুন)
- ২০বছরের বেশী সময় ধরে ডায়াবেটিস।
- আপনার বয়স যদি ৩৫এর বেশী বয়স হয় এবং ধূমপান করেন।
- মাইগ্রেন (বমি বমি ভাবসহ তীব্র মাথা ব্যথা) এর সাথে অবশতা বা তীব্র দৃষ্টি সমস্যা।
- স্তন ক্যান্সার, যকৃতের ক্যান্সার, বা জরায়ুর ক্যান্সার। ক্যান্সার দেখুন ।
- পিত্তকোষের রোগ।
- স্ট্রোক হবার ইতিহাস (পক্ষাঘাত সৃষ্টি করে এমন আক্রমণ)।
- একটি ধমনীতে রক্ত জমাট হওয়া (এটি সাধারণতঃ একটি পায়ে উত্তাপ ও ব্যথার সৃষ্টি করে)।
- যকৃতের রোগ বা হেপাটাইটিস।
এই স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর যে কোনটিতে ভোগা বেশীরভাগ নারীই নিরাপদে এগুলোর পরিবর্তে শুধুমাত্র-প্রোজেস্টিন ছোট বড়ি বা |শুধুমাত্র-প্রোজেস্টিন জন্ম নিয়ন্ত্রণ প্রোথন বা ইঞ্জেকশন ব্যবহার করতে পারে। স্তন ক্যান্সার বা গর্ভাশয়ের ক্যান্সারযুক্ত নারীর হরমোন আছে এমন জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার না করে তার পরিবর্তে অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত।
সমন্বিত বড়ির সাথে মিথষ্ক্রিয়া করে এমন ঔষধ
রিফামপিসিন (একটি টিউবারকুলোসিস ঔষধ), রিটোনাভির (একটি এইচআইভির ঔষধ) এবং কোন কোন মৃগিরোগের ঔষধ জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়িগুলোকে কম কার্যক্ষম করে তোলে। আপনি যদি এই ওষধগুলো সেবন করে থাকেন, তবে ভিন্ন পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করুন। ডায়াবেটিসের জন্য ইন্সুলিন নেয়া নারীদের জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন শুরু করার পর হয়তো ইন্সুলিন ব্যবহার করার পরিমাণ সমন্বয় করতে হতে পারে।
অন্যান্য পদ্ধতি যদি পাওয়া যায় তবে কার তা বিবেচনা করা উচিত
আরও কয়েকটি স্বাস্থ্য সমস্যা আছে যেগুলোর কারণে সমন্বিত বড়ি ব্যবহার করা আদর্শ পদ্ধতিতে পরিণত হয়নি। এই সমস্যাযুক্ত নারীদের জন্য অন্য একটি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করা নিরাপদ:
- উচ্চ রক্তচাপ (১৪০/৯০ এর উপরে)। উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে আরও জানতে হৃদরোগ (সংকলিত হচ্ছে) দেখুন।
- আপনার বয়স যদি ৩৫শের বেশী হয় এবং আপনি মাইগ্রেন মাথাব্যথা থাকে (বমি বমিভাবসহ তীব্র মাথাব্যথা)।
এই স্বাস্থ্যসমস্যাযুক্ত একজন নারী যদি সমন্বিত বড়ি সেবন করে, তবে তার সমস্যাগুলোর যেন আরও অবনতি না হয় তা নিশ্চিত করতে তার প্রতি নজর রাখুন। যদি তার কোন পরিবর্তন না হয় তবে তার জন্য এই বড়িগুলো চালিয়ে যাওয়া ঠিক আছে। যদি সমস্যাগুলো খারাপের দিকে যায় তবে তার ততক্ষণাৎ বড়ি সেবন বন্ধ করা উচিত।
জরুরী জন্মনিরোধ
আপনি যদি জন্ম নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই যৌনক্রিয়া করেন বা আপনার কনডম ফেটে যায় তারপরও আপনি জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির সাহায্যে গর্ভধারণ রোধ করতে পারেন। এটিকে বলা হয় জরুরী গর্ভনিরোধন এবং এটি আপনি যৌনক্রিয়া করার পর প্রথম ৫দিন পর পর্যন্ত কাজ করে—যত তাড়াতাড়ি আপনি এটি সেবন করবেন তত ভাল এটি কাজ করবে। এটি নারী ডিম্বাণুকে নিসৃত হতে দেরী করানোর মাধ্যমে কাজ করে যাতে গর্ভাবস্থা শুরু হতে না পারে। আপনি যদি ইতোমধ্যেই গর্ভবতী হয়ে যান তবে জরুরী জন্মনিরোধন গর্ভাবস্থা থামাবে না।
অনেক দেশেই জরুরী গর্ভনিরোধের জন্য বিশেষ বড়ি পাওয়া যায়। আপনার হয়তো একটি বা ২টি বড়ি সেবন করতে হতে পারে – নির্দেশাবলী ভালভাবে পড়ুন।
যদি এই বিশেষ বড়ি সহজলভ্য না হয় তবে, কোন ধরনের সাধারণ জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি ব্যবহার করা যেতে পারে। ছোট বড়ি, উদাহরণস্বরূপ, অল্প পরিমাণে লেভোনরজেস্ট্রেল বা নরজেস্ট্রেল (এর উভয়ই প্রোজেস্টিনের একটি ধরণ) তাই একটি বড়ির মধ্যে কতখানি আছে তার উপর নির্ভর করে ৪০ থেকে ৫০টি বড়ি সেবন করলে তা একটি বিশেষ বড়ি সমপরিমাণ হবে (পৃষ্ঠা ২৩।
| ছোটবড়ি | ছোটবড়ি | |
| ২৮টি বড়ি + ১২টি বড়ি = ৪০টি বড়ি প্রতিটি বড়িতে ০.০৩৭৫ মিগ্রা লেভেনরজেস্ট্রেলসহ ৪০টি ছোটবড়ি | = ১.৫ মিগ্রা লেভেনরজেস্ট্রেলসহ একটি জরুরী বড়ি l | |
সমন্বিত জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ির ক্ষেত্রে মাত্র কয়েকটি জরুরী গর্ভনিরোধের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়—আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যে ওগুলোর মধ্যে কী আছে এবং কতগুলো সেবন করতে হবে (সাধারণতঃ প্রথমে ৪ বা ৫টি বড়ি এবং তারপর একই মাত্রা ১২ ঘন্টা পরে।আপনি একজন নারীকে জরুরী গর্ভরিরোধে সাহায্য করার পরে হয়তো আপনি তাকে একটি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারেন যেটি তার জন্য ভাল কাজ করবে।
ছোটবড়ি (শুধুমাত্র-প্রোজেস্টিন বড়ি)
এই জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়িতে ইস্ট্রোজেন থাকে না, থাকে শুধু প্রোজেস্টিন। সমন্বিত বড়ি ব্যবহার করতে পারে না এমন বেশীরভাগ নারীর জন্যই এটি নিরাপদ এবং সমন্বিত বড়ি তুলনায় এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক কম। ছোটবড়ি দুধ পান করানো মায়েদের দুধ সরবরাহ হ্রাস করে না। ছোটবড়ি ব্যবহার করা নারীদের মাসিক অনিয়মিত হতে পারে, মাসিকের সময় সামান্য রক্তক্ষরণ হতে পারে, বা মাসিক আদৌ নাও হতে পারে।
| ছোটবড়ির মোড়কে থাকা সকল বড়িতেই একই পরিমাণে হরমোন থাকে। প্রতিদিন একটি করে বড়ি সেবন করুন। |
কিভাবে ছোটবড়ি সেবন করতে হয়
আপনার মাসিকের প্রথম দিনের প্রথম বড়িটি নিন। তারপর প্রতিদিন একটি করে বড়ি একই সময়ে সেবন করুন, এমনকি আপনি যদি যৌনক্রিয়া নাও করেন। আপনার একটি মোড়ক শেষ হয়ে গেলে পরের দিন নতুন আর একটি মোড়ক শুরু করুন, এমনকি আপনার যদি কোন রক্তক্ষরণ নাও হয়ে থাকে। এক দিনও বিরতি দেবেন না। মোড়কের প্রতিটি বড়িতে একই পরিমাণে প্রোজেস্টিন আছে।
আপনি যদি ছোটবড়ি কয়েকঘন্টা দেরীতে সেবন করেন, বা আপনি এক দিন বড়ি সেবন করতে ভুলে যান, আপনি গর্ভবতী হয়ে যেতে পারেন। আপনি যদি একটি বড়ি সেবন করতে ভুলে যান তবে মনে পরার সাথে সাথে একটি বড়ি গ্রহণ করুন। তারপর পরের বড়িটি নিয়মিতি সময়ে সেবন করুন, এমনকি এর মানে আপনাকে একই দিনে দু’টি বড়ি সেবন করা হলেও তা করতে হবে। কনডম ব্যবহার করুন বা ৭দিনের জন্য যৌনক্রিয়া করা থেকে বিরত থাকুন। আপনি যদি একটি ছোটবড়ি সেবন করতে ভুলে যান বা এটি দেরীতে সেবন করেন তবে আপনার হয়তো সামান্য রক্তক্ষরণ হতে পারে।
ছোটবড়ির সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
শুধুমাত্র-প্রজেস্টিন ছোটবড়িগুলোর সবথেকে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো মাসিক রক্তক্ষরণে পরিবর্তন। আপনার হয়তো অযাচিত সময়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে। আপনার মাসিক হয়তে বন্ধই হয়ে যেতে পারে। এটি বিপজ্জনক নয়। অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ওজন বেড়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা, এবং ব্রণ (ফোঁড়া)।
যে সমস্ত ঔষধ ছোটবড়ির সাথে মিথষ্ক্রিয়া করে
রিফামপিসিন (একটি টিউবারকুলোসিস ঔষধ), রিটোনাভির (একটি এইচআইভির ঔষধ) এবং কোন কোন মৃগিরোগের ঔষধ জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়িগুলোকে কম কার্যক্ষম করে তোলে। আপনি যদি এই ওষধগুলো সেবন করে থাকেন, তবে ভিন্ন পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করুন। ডায়াবেটিসের জন্য ইন্সুলিন নেয়া নারীদের জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন শুরু করার পর হয়তো ইন্সুলিন ব্যবহার করার পরিমাণ সমন্বয় করতে হতে পারে।
ছোটবড়ি সেবন শেষ করা
আপনি যদি গর্ভবতী হতে চান বা পদ্ধতি পরিবর্তন করতে চান, তবে আপনি ছোটবড়ি নেয়া যেকোন সময়ে বন্ধ করে দিতে পারেন। সেবন বন্ধ করার সাথে সাথেই আপনি হয়তো গর্ভধারণ করতে সক্ষম হতে পারেন, তাই আপনি যদি গর্ভধারণ এড়াতে চান, তবে ততক্ষণাৎ অন্য পদ্ধতি শুরু করুন।


